দেড় মাসের বেশি সময় পর দেশে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর ঘোষণার পর গত সোমবার রাত থেকে সরবরাহ বাড়তে শুরু করে। মঙ্গলবার তা আরও কিছুটা বেড়েছে। বাড়তি গ্যাসের অধিকাংশই শিল্প খাতে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে বর্তমানে ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুটের মতো সরবরাহ করা হচ্ছে। মঙ্গলবার রাতে এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয় প্রায় ১০১ কোটি ঘনফুট এবং দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসে ১৬২ কোটি ঘনফুট। সব মিলিয়ে সরবরাহ ছিল প্রায় ২৬৩ কোটি ঘনফুট।
এর আগে গত ২১ জুলাই মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তখন দৈনিক মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় ২৬৪ কোটি ঘনফুট। পরে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদনও কিছুটা কমে যাওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়।
পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্র বলছে, এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সেপ্টেম্বরে ১০টি কার্গো আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৯টি কার্গো নিশ্চিত হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি খোলাবাজার থেকেও এলএনজি কেনা হচ্ছে। অক্টোবরের জন্যও ১১টি কার্গো কেনার প্রক্রিয়া চলছে, যার মধ্যে আটটি ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে।
এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে কয়েকটি এলএনজি কার্গো সময়মতো দেশে আসতে পারেনি। বর্তমানে নিয়মিত কার্গো আসায় সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে শিল্পে গ্যাসের চাপ এখনও প্রয়োজনের তুলনায় কম বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। নারায়ণগঞ্জের একটি পোশাক কারখানার মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ ইমতিয়াজ রাজীব বলেন, কারখানায় গ্যাসের চাপ ১০ পিএসআই থাকার কথা থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৪ পিএসআই।
নারায়ণগঞ্জ ডাইং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমজাদ হোসেনও বলেন, কারখানা চালানোর জন্য যে পরিমাণ গ্যাসের চাপ প্রয়োজন, তা এখনও পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও বিদ্যুৎ খাতে সংকট পুরোপুরি কাটেনি। পিডিবি ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার দিবাগত রাতে আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি এবং মঙ্গলবার দিনের বেলায় প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হয়েছে। তবে আগের মাসের সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিংয়ের তুলনায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা ও জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট এবং কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তবে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট চালু হওয়ায় সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। পটুয়াখালীর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেও উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
