যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত অপ্রত্যাশিতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বুধবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। লোহিত সাগর অভিমুখী সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পর ইয়ানবু বন্দরে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা বাজারের সরবরাহ ঝুঁকি পর্যালোচনা করছেন।
এদিন আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৩ সেন্ট বা ০.৮৬ শতাংশ কমে ১০৭.৮২ ডলারে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৯৭ সেন্ট বা ০.৯২ শতাংশ কমে ১০৪.৮৬ ডলারে হয়েছে।
গত মঙ্গলবার ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই তেলের দাম তিন ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল। ইয়ানবু বন্দরে তেল ওঠানো বন্ধ এবং ইউরোপে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত ৭ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল বেড়ে গেছে, যা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের বিপরীত। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট (এপিআই) তথ্য মতে, গ্যাসোলিন ও ডিজেলের মজুতও অপ্রত্যাশিতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে আঞ্চলিকভাবে মজুত বৃদ্ধির মধ্যেও বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ এখনও কম রয়েছে। সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন, যা প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল লোহিত সাগরে পাঠানোর ক্ষমতা রাখে, গত শুক্রবার ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলার পর বন্ধ রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী জানিয়েছেন, সৌদি আরবের এই পাইপলাইন থেকে কয়েক দিনের মধ্যে আবার তেল সরবরাহ পুনরায় শুরু হবে। তবে মেরামতের সময় নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মত ভিন্নতা রয়েছে; কারো মতে পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগবে, আবার কেউ বলছেন মেরামতের কাজ চলাকালীন এর একটি অংশ দিয়ে সরবরাহ শুরু করা সম্ভব।
অন্যদিকে, লিবিয়ায় তিনটি তেলক্ষেত্রের কাজ বন্ধ রয়েছে যেখানে দেশটির পেট্রোলিয়াম ফ্যাসিলিটিজ গার্ডের সদস্যরা একটি অপরিশোধিত তেল রপ্তানি পাইপলাইনের ভাল্ভ বন্ধ করার ফলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে লিবিয়ার দৈনিক তেল উৎপাদন বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল, যা উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত হয়নি।
