ইরানের হামলায় উপসাগরীয় মার্কিন স্থাপনায় প্রায় ১৮৪ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ হাজার ২৬৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা) ক্ষতি হয়েছে। এই তথ্য পেন্টাগনের ইন্সপেক্টর জেনারেলের প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে, যা মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিলের মাধ্যমে জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুসারে, ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের হামলায় মার্কিন স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে ইরাকে ১৫৭ মিলিয়ন ডলারের বেশি আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কুয়েতে ১৪ মিলিয়ন ডলার এবং সৌদি আরবে প্রায় ১১.৫ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক স্থাপনায় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার।
ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের মিশনে একে একে ৬০০টির বেশি হামলা চালানো হয়েছে ইরানের পক্ষ থেকে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে 'অপারেশন এপিক ফিউরি' শুরু হওয়ার পর থেকে এই হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পায় এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের যুদ্ধের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত মার্কিন যুদ্ধ ব্যয় প্রায় ৩৩.৪ বিলিয়ন ডলার হলেও ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যয় এই হিসাবের মধ্যে ধরা হয়নি।
জুলাই মাসে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা বিশেষজ্ঞদের মতে প্রকৃতপক্ষে এর থেকে বেশি হতে পারে।
মার্কিন কংগ্রেসের নিরপেক্ষ বাজেট বিশ্লেষক সংস্থা কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস (সিবিও) জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ব্যয় ৩৮ বিলিয়ন ডলার এবং এ খরচ প্রতি মাসে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই বাড়তে থাকা ব্যয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক অবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। আগস্টে দেশটির সরকারি ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী বড় সামরিক অভিযানের তুলনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর ইরাক ও আফগানিস্তানে দীর্ঘকালীন সামরিক অভিযান।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের আট বছরব্যাপী যুদ্ধকালে সর্বোচ্চ সময় এক লাখের বেশি স্থলসেনা মোতায়েন ছিল এবং এ যুদ্ধে প্রায় ২ 트িলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছিল। আফগানিস্তানে দুই দশক ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে সর্বোচ্চ সময়ে এক লাখের বেশি সেনা মোতায়েন ছিল এবং ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কস্টস অব ওয়ার’ প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ওই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২.৩ মিলিয়ন ডলার।
