মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) বিচারাধীন সাবেক ফিলিপাইন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নেদারল্যান্ডসের হেগে আদালতে হাজির হয়েছেন। এক বছরেরও বেশি সময় পর এটাই তাঁর প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি।

৮১ বছর বয়সী দুতের্তের বিরুদ্ধে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। প্রেসিডেন্ট এবং এর আগে ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি শহরের মেয়র থাকাকালে তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত কথিত ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধে’ বহু মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনায় তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছে। দুতের্তে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সংবাদসংস্থা এপি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি বেশ কয়েকটি শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁর অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে চিকিৎসাজনিত বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে আইসিসির বিচারকেরা জানান, বিচার কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার মতো শারীরিক সক্ষমতা তাঁর রয়েছে।

এর আগে জুনের এক শুনানিতে মামলার সভাপতিত্বকারী বিচারক জোয়ানা কর্নার দুতের্তের আইনজীবীদের জানিয়েছিলেন, বুধবারের শুনানিতে সাবেক প্রেসিডেন্টের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বুধবারের শুনানিতে মামলার প্রমাণপত্র প্রকাশ এবং বিচার শুরুর সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। আগামী নভেম্বর থেকে মূল বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

২০২৫ সালের মার্চে দুতের্তেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই বছরের সেপ্টেম্বরে হেগের আদালতে তাঁর হাজির হওয়ার কথা থাকলেও তাঁর আইনজীবীদের আবেদনের পর বিচারকেরা সীমিত সময়ের জন্য শুনানি পিছিয়ে দেন। আদালত পরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি প্যানেলের মূল্যায়নের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেন, দুতের্তে বিচার-পূর্ব কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার জন্য সক্ষম।

দুতের্তের প্রেসিডেন্ট আমলে মাদকবিরোধী অভিযানে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ব্যাপক মতভেদ রয়েছে। ফিলিপাইনের জাতীয় পুলিশের হিসাবে নিহতের সংখ্যা ৬ হাজারের বেশি। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবে তা ৩০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।

আইসিসির কৌঁসুলিদের অভিযোগ, দুতের্তের নির্দেশে পুলিশ ও সরকারি ‘হিট স্কোয়াড’ বাহিনী বহু হত্যাকাণ্ড চালায়। অভিযুক্তদের হত্যার জন্য অর্থ দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের লক্ষ্যবস্তু হওয়া এড়াতেও অনেকে এসব হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

২০১৮ সালে আইসিসি মাদকবিরোধী অভিযানের বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত ঘোষণা করার পর দুতের্তে ফিলিপাইনকে আইসিসি থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দেন। তবে তাঁর আইনজীবীদের মামলা বাতিলের আবেদন গত বছর প্রত্যাখ্যান করে আদালত। বিচারকেরা বলেন, রোম সংবিধান থেকে প্রত্যাহারের অধিকার ব্যবহার করে ইতিমধ্যে বিবেচনাধীন অপরাধের অভিযোগ থেকে কাউকে বিচারের বাইরে রাখা যায় না।

এদিকে দুতের্তের মেয়ে ও ফিলিপাইনের বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতের্তের বিরুদ্ধেও পৃথক রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অজ্ঞাত সম্পদ অর্জন এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের পরিবারের সদস্যদের প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার বিষয়। সারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।