মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় উপজেলা কৃষি বিভাগ সাতটি কোম্পানির আট ধরনের মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সারকে ভেজাল হিসাবে চিহ্নিত করে এসব সার মজুত, ক্রয় ও বিক্রয় বন্ধ এবং বাজার থেকে প্রতিযোগিতামূলক পণ্য জরুরি ভিত্তিতে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে। উল্লেখ্য, এসব সার পরীক্ষাগারে নির্ধারিত মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীনতা দেখা গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের ১৪ সেপ্টেম্বরের লিখিত নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত বছর ২১ ডিসেম্বর সাটুরিয়ার বিভিন্ন বাজার ও বিক্রয়কেন্দ্র থেকে সার ও কীটনাশকের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। পরীক্ষার প্রতিবেদন চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর উপজেলা কৃষি কার্যালয়ে পৌঁছার পর রবিবার ওই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

পরীক্ষার দিক থেকে মোট ১৬টি সার ও কীটনাশকের নমুনা সংগ্রহের মধ্যে সাতটি প্রতিষ্ঠানের আট ধরনের মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সার নির্ধারিত মানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ পাওয়া যায়। এসব সার ভাইবিলন এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি লিমিটেডের ব্যাবিলন বোরন, ব্যাবিলন এগ্রিসায়েন্স লিমিটেডের ব্যাবিলন জিংক, নিউ এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নিউ সলুবোর ও সলিড জিংক মনো, এগ্রো মাইন (প্রা.) লিমিটেডের বিজয় জিংক সালফেট মনোহাইড্রেট, হোসেন এন্টারপ্রাইজ সিসি লিমিটেডের মনোজিংক, ডেলকো এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের জিবি জিংক এবং গ্রিন বাংলা এগ্রোভেট লিমিটেডের জিংক সালফেট মনোহাইড্রেট।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের নোটিশে বলা হয়েছে, সার ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী এই সারগুলোকে ভেজাল সার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব সার মজুত, ক্রয় ও বিক্রয় থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে বিধিমালা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তানিয়া তাবাস্সুম বলেন, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সার যেমন জিংক, বোরন ইত্যাদি উদ্ভিদের জন্য অত্যাবশ্যক, যদিও তা অল্পমাত্রায় ব্যবহৃত হয়। এসব উপাদানের অভাব ফসলের বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং ফসলের সুরক্ষার জন্য নিয়মিতভাবে সার বাজারে নজরদারি চালানো হচ্ছে। ভেজাল সার বা কীটনাশকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় কৃষকেরা কম মানের সার ব্যবহারের কারণে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। হরগজ ইউনিয়নের রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত কৃষক আ. খ. ম. নূরুল হক বলেছেন, নামকরা কোম্পানির সারের পরেও কাঙ্ক্ষিত ফলন পাচ্ছেন না তারা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা করা কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ভেজাল সারের সঙ্গে জড়িত ডিলার ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।