বরগুনার পাথরঘাটায় সরকারি আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দাদের জন্য কবরস্থান হিসেবে নির্ধারিত জায়গায় ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাহিন মোল্লার বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেছেন, ওই জমির একটি অংশ সরকারিভাবে তাঁর নামে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছিল।

পাথরঘাটা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী বাড়ি ৫২ ঘর আবাসনে এ ঘটনা ঘটেছে।

উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে পাথরঘাটা-মঠবাড়িয়া আঞ্চলিক সড়কের পাশে সরকারি জমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় এই আবাসন গড়ে তোলা হয়। ৫২টি ঘরে বর্তমানে প্রায় ৩০০ মানুষ বসবাস করছেন।

আবাসনের বাসিন্দাদের দাবি, তাঁদের বসবাসের পাশাপাশি মরদেহ দাফনের জন্য একটি জায়গা কবরস্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ওই জমি দখলের চেষ্টা শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন তাঁরা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঘটনাস্থলে কবরস্থানের জন্য নির্ধারিত বলে দাবি করা জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের প্রস্তুতি দেখা যায়। সেখানে বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী রাখা ছিল এবং পাকা পিলার নির্মাণের কাজও করা হচ্ছিল।

বাসিন্দারা জানান, আবাসন এলাকায় চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত রাস্তা ও কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই। ঘরগুলোর মাঝেও খালি জায়গা খুব কম। ফলে কবরস্থানের নির্ধারিত জায়গা ব্যবহার করতে না পারলে কেউ মারা গেলে দাফন নিয়ে বড় সমস্যায় পড়তে হবে বলে আশঙ্কা তাঁদের।

আবাসনের বাসিন্দা খোরশেদ মিয়া জানান, প্রায় এক বছর আগে তাঁর নাতি মারা গেলে নির্ধারিত জায়গায় দাফন করতে পারেননি। পরে আবাসনের দুটি ঘরের মাঝের অল্প জায়গায় মরদেহ দাফন করতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মো. আলম, আসমা আক্তার ও কুলসুমসহ কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, তাঁদের নিজস্ব জমি নেই। সরকার যে আবাসনে থাকার ব্যবস্থা করেছে, সেখানে অন্তত মৃত্যুর পর দাফনের জন্য নির্ধারিত জায়গাটি যেন সংরক্ষণ করা হয়, সেই দাবি তাঁদের।

তবে জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাহিন মোল্লা।

তাঁর দাবি, ১৯৯০ সালে সরকার থেকে তিনি ৩০ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত পেয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে সেই বন্দোবস্ত বাতিল না করেই সেখানে আবাসন প্রকল্প করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শাহিন মোল্লা আরও দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল এবং তাঁকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি হাইকোর্টে রিট করেছিলেন বলেও জানান।

বর্তমানে যে জায়গায় ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে উপজেলা ভূমি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অবগত আছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পাল জানিয়েছেন, সরকারি জমি দখলের অধিকার কারও নেই। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

পাথরঘাটা উপজেলা প্রশাসনের সরকারি ওয়েবসাইটেও তাপস পালকে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।