মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তাকে সব ধরনের রাজনৈতিক বিরোধ ও সামরিক সংঘাতের ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি সৌদি আরবের পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
চরমোনাই পীর বলেন, হারামাইন শরিফাইন বিশ্বের মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। তাই মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তা কোনো রাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিক বিরোধের অংশ হওয়া উচিত নয়।
সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মক্কাসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে সতর্কতা জারির ঘটনায় মুসলিম বিশ্বে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।
সৌদি কর্তৃপক্ষ ১৫ সেপ্টেম্বর মক্কা, জেদ্দা ও তায়েফে সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
এরপর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দাবি করে, মক্কার দক্ষিণে হুতিদের পাঠানো একটি ড্রোন সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। তবে ইয়েমেনের হুতিরা মক্কা বা অন্য কোনো পবিত্র স্থানকে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
হুতিদের এ অস্বীকারের প্রসঙ্গ তুলে রেজাউল করীম বলেন, পবিত্র স্থানগুলোকে লক্ষ্য না করার অবস্থানে তাদের অটল থাকা উচিত।
একই সঙ্গে সৌদি সরকারের প্রতিও আহ্বান জানান ইসলামী আন্দোলনের আমির। তাঁর বক্তব্য, ইসলামের প্রধান দুই পবিত্র স্থানের রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের কারণে সৌদি আরবের এমন পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে আঞ্চলিক রাজনৈতিক বা সামরিক সংঘাত থেকে মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে না পড়ে।
তিনি বলেন, শুধু পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা নয়, মক্কা-মদিনা ও আরব উপদ্বীপে এসব স্থানের ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ।
হারামাইনের নিরাপত্তার প্রশ্নে বাংলাদেশের জনগণ সৌদি আরব ও মুসলিম বিশ্বের পাশে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন চরমোনাই পীর।
