জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন মেরুদণ্ডহীন হওয়ায় নির্বাচন কখনো সুষ্ঠু হতে পারে না। তিনি এই মন্তব্য করেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের স্থানীয় সরকারের নির্বাচন সংক্রান্ত বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে।
মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বুধবার অনুষ্ঠিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ১৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন পরিচালনার একটি প্রাথমিক রূপরেখা ঘোষণা করেছিল। প্রথম ধাপের নির্বাচন ১২ নভেম্বর এবং শেষ ধাপের নির্বাচন ২৭ মে করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মাত্র একদিনের মধ্যে ঐ সময়সূচি নিয়ে আপত্তি জানায়। এরপর নির্বাচন কমিশন তার রূপরেখাকে 'পুরোপুরি প্রাথমিক' হিসেবে পুনর্ব্যাখ্যা করে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করার কথা জানায়।
পরওয়ার বলেন, তফসিলের প্রাথমিক ঘোষণার পর মন্ত্রীর আপত্তি এবং অবিলম্বে পরিকল্পনা পরিবর্তনের ঘটনাটি নির্বাচন কমিশনের মেরুদণ্ডহীনতার প্রমাণ। তিনি বলেন, এভাবে পরিচালিত নির্বাচন কখনো সুষ্ঠু হতে পারে না এবং এই বিষয়ে দেশের মানুষের বিবেচনার জন্য এ তথ্য উপস্থাপন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ ও অতিরিক্ত সচিব শামসুল আলম বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করেন কিন্তু তাদের আচরণ থেকে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের মর্যাদা স্পষ্ট নয়। আখতার আহমেদ একজন সিনিয়র সচিব হিসেবে মন্ত্রীর বক্তব্য শিরোধার্য উল্লেখ করে মন্তব্য না করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন, যা পরোয়ারের মতে কমিশনের মেরুদণ্ডহীনতা প্রতিফলিত করে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অযোগ্য করা প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, অতীতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণ ছিল, এখন অংশগ্রহণের সুযোগ বন্ধ করা সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন। তিনি স্থানীয় সরকারের প্রশাসকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানিয়ে বলেছেন, প্রশাসকরা সরকারি তহবিল ব্যয়ের মাধ্যমে প্রচার করলে নির্বাচনের ন্যায্যতাও হুমকির মুখে পড়বে।
জামায়াত নেতা নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে সময়সূচি প্রণয়ন ও অন্যান্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দেওয়া, মন্ত্রণালয় বা রাজনৈতিক ক্ষমতাসীনদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিলম্ব রোধ এবং গ্রাহ্য নির্বাচন রোডম্যাপ নির্ধারণের দাবি করেন।
পরওয়ার আরও বলেন, সমস্ত প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ, নিরাপদ নির্বাচন পরিবেশ ও কার্যকর লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নিশ্চয়তা দিতে হবে। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক মর্যাদা রক্ষা এবং তার স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিশ্চয়তা প্রদান করতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
তিনি স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে বর্তমান সরকারের নিয়োগকৃত প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য করার সিদ্ধান্ত বাতিলের পাশাপাশি জামায়াতের নব দফা দাবিসহ নির্বাচনের পারদর্শিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আবেদন জানান।
