২০২৭ সালের হজে যেতে আগ্রহীদের নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর। নির্ধারিত সময়ের পর নিবন্ধনের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

১৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২৭ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের হজের নিবন্ধন শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই হজযাত্রী, হজ এজেন্সি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকসহ সবাইকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এবার বাংলাদেশের জন্য সৌদি আরব নির্ধারিত হজ কোটা দিয়েছে ৭৮ হাজার ৫০০ জনের। তবে নিবন্ধনের বর্তমান গতি নিয়ে সেই কোটা পূরণ হওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৩১১ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৩ হাজার ৯৮৩ জন হজযাত্রী চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রাক-নিবন্ধন করা ব্যক্তিদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্যাকেজের প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু আগেভাগে বড় অঙ্কের অর্থ জমা দেওয়ার বিষয়ে অনেক হজযাত্রীর অনীহা রয়েছে বলে জানিয়েছেন হজ এজেন্সির মালিকরা। এতে নিবন্ধনের গতি প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়ছে না।

এদিকে গত কয়েক বছরে হজের সামগ্রিক ব্যয় বৃদ্ধি, মানুষের আর্থিক সক্ষমতার ওপর চাপ, সৌদি আরবে আবাসন ও পরিবহনসহ বিভিন্ন সেবার মূল্য এবং ওমরাহ পালনের প্রবণতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের হজ কোটা পূরণে সমস্যা হচ্ছে।

চলতি বছর বাংলাদেশের কোটা আগের তুলনায় প্রায় ৫০ হাজার কমিয়ে ৭৮ হাজার ৫০০ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই সংখ্যক হজযাত্রীর নিবন্ধন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

২০২৭ সালের হজের সরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বনিম্ন প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা। আর অন্য প্যাকেজটির মূল্য ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা।

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় তিন ধরনের প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে সাশ্রয়ী প্যাকেজের মূল্য ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৫ টাকা, সাধারণ প্যাকেজ ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৫৮০ টাকা এবং বিশেষ প্যাকেজের মূল্য ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা।

২০২৬ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজের মূল্য ছিল ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৩৭ টাকা। তবে ওই প্যাকেজে খাবারের ব্যয় ধরা হয়নি। এবার খাবারের জন্য অতিরিক্ত ৩৯ হাজার ৫০৮ টাকা যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি মিনা ও আরাফাতে সৌদি সরকারের সর্বনিম্ন ডি ক্যাটাগরি প্রত্যাহারের কারণে ৭০০ রিয়াল এবং মুদ্রার বিনিময় হারজনিত অতিরিক্ত ব্যয়ও যুক্ত হয়েছে।

যদিও এবার বিমানভাড়া প্রায় ২৫ হাজার টাকা কমেছে, তবুও সামগ্রিক হজ ব্যয় কমেনি। বরং সর্বনিম্ন সরকারি প্যাকেজের মূল্য গত বছরের তুলনায় ৩৮ হাজার ৫১১ টাকা বেড়েছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনার প্যাকেজগুলোর ক্ষেত্রেও গত বছরের তুলনায় ব্যয় বেড়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, হাতে থাকা অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক হজযাত্রীর চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করা বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে এবারও কোটা পূরণ না হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত কোটা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।