ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়ায় প্রীতি গ্রুপের এফ অ্যান্ড এফ কারখানার সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছেন। এর মধ্যে এক নারীর লাশ রয়েছে। তার নাম জয়নব বেগম (৫৫)। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুরের ইসরকান্দি এলাকার মো. আলীর স্ত্রী। অন্য ৫ জনের নাম পরিচয় জানা যায়নি। এ ঘটনায় আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর অগ্নিদগ্ধ ৪ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম লাশ উদ্ধারের এ তথ্য জানান।

জানা গেছে, ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ একজন মারা গেছেন। তার নাম নজরুল ইসলাম (৩০)। চিকিৎসাধীন বাকি ৩ জন হলেন—কাঁচামাল বিক্রেতা সুজন মিয়া (২৫), তাঁর বাবা মুখলেস মিয়া (৪৫)। অপরজন গ্যাস পরিবহনের গাড়িচালক দগ্ধ নুর ইসলাম (৩০)।

নিহত নজরুলের ছেলে সামিউল ইসলাম জানান, তাদের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আবুডাঙ্গা গ্রামে। বর্তমানে আশুলিয়া শিমুলতলায় থাকেন। ওই কারখানার সামনে পেঁয়াজ-রসূন বিক্রি করতেন তাঁর বাবা। দুর্ঘটনার পর তিনি খবর পেয়ে স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে গিয়ে তাঁর বাবাকে দেখতে পান। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসেন। কিছুক্ষণ চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।

আহত মুখলেস মিয়া জানান, তারা বাবা-ছেলে আশুলিয়ার জামগড়া প্রীতি গ্রুপের পোশাক কারখানার সামনের রাস্তায় কাঁচামাল বিক্রি করেন। সন্ধ্যায় কারখানার ভেতরে বিকট একটি বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণে বিভিন্ন লোহার জিনিসপত্র, ইট-পাটকেল, গ্লাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সেগুলোই মাথায় এসে পড়ে সুজনের। আর তাঁর হাতে ও পায়ে আঘাত পান। সেখান থেকে আশপাশের লোকজন তাঁদেরকে উদ্ধার করে স্থানীয় মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে তাদেরকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়।

দগ্ধ নুর ইসলামের ভাগিনা মো. মাসুদ জানান, নুর ইসলামের বাড়ি বাগেরহাট জেলায়। তবে থাকতেন ভোলাতে। গ্যাস পরিবহনের গাড়ি চালান তিনি। বিস্ফোরণে তাঁর সারা শরীর পুড়ে গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. হাবিবুর রহমান জানান, আশুলিয়ার ঘটনা মোট ৪ জনকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়েছে। এদের মধ্যে নজরুল নামে একজন মারা গেছে। ২ জন ক্যাজুয়ালিটি ও ১ জন বার্ন ইউনিটে ভর্তি আছেন।