জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজা ও ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে তাঁর দেশের সামরিক কর্মকাণ্ডের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেছেন। তবে তাঁর বক্তব্য শুরু হওয়ার পরই কয়েক ডজন প্রতিনিধি প্রতিবাদ জানিয়ে অধিবেশনস্থল ত্যাগ করেন।

ভাষণে নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘আমরা জিতব। অন্য কোনো বিকল্প নেই।’ যারা প্রতিবাদ করে বেরিয়ে যাননি, তাদেরও তিনি কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে—এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।

এর আগে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণের সমালোচনা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না পাওয়ায় ভিডিওবার্তার মাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া আব্বাস বলেন, ইসরায়েলের নীতির কারণে দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধ্বংস, বাস্তুচ্যুতি ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডের অভিযোগও তোলেন তিনি।

ভাষণে নেতানিয়াহু ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সমালোচনা করেন এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন। হামাসকে সমর্থনের অভিযোগ এনে এরদোয়ানকে আক্রমণাত্মক ভাষায় মন্তব্য করেন তিনি।

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে নিয়েও বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু। এদিকে মেয়রের কার্যালয় থেকে বলা হয়, নেতানিয়াহুর বক্তব্যে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে আড়াল করতে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও ধন্যবাদ জানান নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ কর্মকাণ্ড শুধু নিজেদের সুরক্ষার জন্য নয়, বরং বৃহত্তর নিরাপত্তার স্বার্থেও পরিচালিত হয়েছে।

এদিকে নিউইয়র্কে নেতানিয়াহুর সফর ও বক্তব্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভের ঘটনায় অস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন এবং এমি পুরস্কারজয়ী হান্না ইনবিন্ডারসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, সংঘাত শুরুর পর সেখানে ৭৩ হাজার ৯২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যার অভিযোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উঠেছে। তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং তাদের সামরিক অভিযানকে আত্মরক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে দাবি করছে।

এদিকে ইরানকে ঘিরেও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বেড়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দেশটির বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এর জবাবে ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স